Electricity Bill: বিদ্যুৎ বিল মুক্তি! মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় বিনামূল্যে কারেন্ট, জানুন শর্তপশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ (west bengal electricitry) পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনায় নতুন পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক বোঝা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমলে সরাসরি এর প্রভাব পড়বে বিদ্যুতের দামের ওপর, যা রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষকে উপকৃত করতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন।
দেউচা পাচামি খনি প্রকল্পে নতুন উদ্যোগ
রাজ্যের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে এবং উৎপাদন বাড়াতে সরকারের অন্যতম ভরসা দেউচা পাচামি কয়লা খনি। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কয়লা খনি, যা যথাযথভাবে ব্যবহৃত হলে রাজ্যের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিপ্লব ঘটাতে পারে। সরকার এই কয়লা খনিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এতে শিল্পের বিকাশ যেমন সহজ হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ খরচও কমতে পারে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেউচা পাচামি কয়লা খনির কয়লা ব্যবহার করলে আগামী ১০০ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উদ্বেগমুক্ত থাকা সম্ভব হবে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, কর্মসংস্থানেও বড়সড় পরিবর্তন আনতে পারে।
বিল কমবে, কমবে চাপ
দেউচা পাচামি প্রকল্প সফল হলে রাজ্যের বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমে আসবে, যার ফলে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিলও (Electricity Bill) কমতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির ক্ষেত্রে এটি স্বস্তির খবর হতে চলেছে। বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমলে তা সরাসরি গ্রাহকদের বিলের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। তবে বিদ্যুতের দামের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাজ্যের হাতে নেই, বিশেষ করে বেসরকারি সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে।
সরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ফলে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই পরিকল্পনায় পরিবেশের ওপর প্রভাব নিয়েও সরকার চিন্তাভাবনা করছে এবং তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিনামূল্যে বিদ্যুৎ: হাসির আলো প্রকল্প
রাজ্যের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষদের জন্য বিদ্যুৎ পরিষেবা আরও সুলভ করতে রাজ্য সরকার চালু করেছে ‘হাসির আলো’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিষেবা পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় বলা হয়েছে, যদি কোনও পরিবার প্রতি তিন মাসে ৭৫ ইউনিটের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তাহলে তাদের কোনো বিদ্যুৎ বিল (Electricity Bill) দিতে হবে না। এই প্রকল্পের ফলে লক্ষাধিক পরিবার উপকৃত হচ্ছে, যা রাজ্যের সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম বড় উদ্যোগ।
কাদের জন্য এই বিশেষ সুবিধা?
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার মূল চমকটি লুকিয়ে রয়েছে এই প্রকল্পের শর্তাবলীতে। শুধুমাত্র ০.৩ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গৃহস্থ বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রেই এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। এটি মূলত নিম্নবিত্ত এবং গরিব পরিবারের জন্য চালু করা হয়েছে, যারা কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। অর্থাৎ, যদি বিদ্যুৎ খরচ ৭৫ ইউনিটের নিচে থাকে, তাহলে সেই পরিবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পাবেন।
এই সিদ্ধান্ত রাজ্যবাসীর একাংশের জন্য স্বস্তির খবর হলেও, অনেকে মনে করছেন এটি দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিভাগের আয়ের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমিয়ে প্রকল্পকে টেকসই করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রকল্প ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর হয় এবং কত দ্রুত রাজ্যবাসীর কাছে এর সুফল পৌঁছায়।
এই প্রতিবেদনটি পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ সংক্রান্ত বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। আপনার যদি কোনো নির্দিষ্ট সংযোজন বা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, জানান!
আরও পড়ুন। Whisky Price Drop: হুইস্কির দাম কমবে! ট্রাম্পের অনুরোধে মোদীর চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত