Krishnanagar-Amghata Rail Line: প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে, কারণ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই কৃষ্ণনগর থেকে আমঘাটা পর্যন্ত ট্রেন পরিষেবা চালু হতে চলেছে। দীর্ঘ ১৫ বছর বন্ধ থাকার পর এই রেলপথে আবারও ট্রেন চলাচল শুরু হবে। শিয়ালদহ ডিভিশনের সিনিয়র ডিভিশনাল অপারেশন ম্যানেজার পঙ্কজ যাদব জানিয়েছেন যে, এই শাখাটি ট্রেন চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত। ইতিমধ্যে কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটির তরফ থেকে অনুমোদন পাওয়া গেছে। রেল বোর্ডও এই রুটে চারটি আপ ও চারটি ডাউন ট্রেন চালানোর প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। ফলে খুব শিগগিরই এই পরিষেবা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিগত কয়েক দশকের মধ্যে এটি ভারতীয় রেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আগে এই রুটে ন্যারো গেজ ট্রেন চলত, যা কৃষ্ণনগর থেকে নবদ্বীপ ধাম পর্যন্ত যাতায়াত করত। তবে ১৫ বছর আগে সেই পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে এই রেলপথকে ব্রডগেজে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই স্বপ্ন এবার বাস্তবায়নের পথে। কৃষ্ণনগর থেকে আমঘাটা পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইনের কাজ শেষ হয়েছে, এবং শীঘ্রই এখানে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
শিয়ালদহ ডিভিশনের আওতায় থাকা এই রেলপথের নির্মাণকাজ কয়েক মাস আগেই সম্পূর্ণ হয়েছে। ২০১০ সালের দিকে এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তখনই ব্রডগেজ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কৃষ্ণনগর থেকে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত ন্যারো গেজ ট্রেন চলাচলও তখনই বন্ধ হয়ে যায়। এই প্রকল্পের জন্য রেল বাজেটেও অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। শান্তিপুর থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথের কাজ আগেই শেষ হয়েছিল, তবে কৃষ্ণনগর থেকে আমঘাটা পর্যন্ত লাইন সম্প্রসারণের কাজ কিছুটা সময় নিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কৃষ্ণনগরের কাছে অ্যাপ্রোচ রোড, নিকাশি ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পরিকাঠামো নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। রেললাইনের ধারে লোহার বেড়া লাগিয়ে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে সারাদিনে আটটি ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে, তবে নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং ভাড়া সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। রেল কর্তৃপক্ষের মতে, খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।
এই রেল পরিষেবা চালু হলে কৃষ্ণনগর ও আমঘাটা অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য এটি অত্যন্ত সুবিধাজনক হবে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা এই পরিষেবা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে তাদের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। এই রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হলে কৃষ্ণনগরের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং নিত্যযাত্রীদের পাশাপাশি পর্যটকরাও উপকৃত হবেন। কৃষ্ণনগর ও নবদ্বীপ ধাম একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হওয়ায় এখানে যাতায়াতের চাহিদা বরাবরই বেশি।
এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন রেলের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একসময় যাত্রীদের অন্যতম নির্ভরযোগ্য পরিবহন ব্যবস্থা ছিল এই রুটের ন্যারো গেজ ট্রেন। কিন্তু পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার ট্রেন চালুর জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন, অবশেষে সেই দাবি পূরণ হতে চলেছে। ব্রডগেজ ট্রেন চালু হলে যাতায়াত আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হবে, এবং কৃষ্ণনগর ও আশপাশের এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নতুন রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হলে স্থানীয় ব্যবসা ও পর্যটন ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। নবদ্বীপ ধামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনস্থলে যাতায়াত আরও সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষ্ণনগর ও আমঘাটার মধ্যবর্তী অঞ্চলগুলোর মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতেও এটি বিশেষ সুবিধা দেবে। সরকার ও রেল কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই ট্রেন পরিষেবা চালু হলে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং তারা দ্রুত, সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক পরিবহন সুবিধা পাবেন।
সব মিলিয়ে কৃষ্ণনগর-আমঘাটা ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালুর খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। রেল মন্ত্রকের এই উদ্যোগ শুধু যাত্রীসুবিধা বৃদ্ধিই করবে না, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন সংযোগ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হবে। রেল কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পরিষেবা শুরু করা সম্ভব হবে, যা বহু মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটাবে।
আরও পড়ুন। Ration Card: ১লা এপ্রিল থেকে রেশন কার্ডধারীদের দামী চাল বিতরণ করবে রাজ্য সরকার! জানুন কারা পাবেন?