Government Employees: এ যেন অকাল গ্রীষ্ম! সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে তাপপ্রবাহ (Heatwave) শুরু হয়, কিন্তু এবার মার্চের মাঝামাঝিতেই দক্ষিণবঙ্গের (South Bengal) একাধিক জেলায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। সকাল থেকেই চড়া রোদ, দুপুরের দিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। শহরের রাস্তায় বেরোনো দায় হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের। প্রচণ্ড গরমের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে, হাসপাতালগুলিতে হিট স্ট্রোকের (Heat Stroke) রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে স্কুল-কলেজগুলির সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ছোটোদের গরম থেকে বাঁচাতে কিছু জায়গায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এবার সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রেও বিশেষ পদক্ষেপ নিল নবান্ন (Nabanna)। কারণ সরকারি চাকরি মানেই শুধু এসির ঘরে বসে কাজ নয়, অনেক কর্মীকে রোদ, বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মাঠে নেমে দায়িত্ব সামলাতে হয়। তীব্র দাবদাহের কথা মাথায় রেখেই তাঁদের জন্য বিশেষ সুবিধার ঘোষণা করা হয়েছে।
দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে
গরম যত বাড়ছে, ততই সমস্যায় পড়ছেন রাস্তায় কাজ করা কর্মীরা। বিশেষত, ট্রাফিক পুলিশ (Traffic Police), পুরসভা (Municipality), স্বাস্থ্য দফতর (Health Department) ও পরিবহণ (Transport) দফতরের কর্মীদের দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে হয়। ট্রাফিক পুলিশের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। তাঁরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে দাঁড়িয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করেন। টানা রোদের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে ডিহাইড্রেশন (Dehydration), রোদের জ্বালাপোড়া, মাথা ঘোরা—এইসব সমস্যা প্রায়ই দেখা যাচ্ছে।
শুধু ট্রাফিক পুলিশ নয়, পুরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও সকালবেলা থেকেই খোলা রাস্তায় কাজ করেন। তীব্র গরমে তাঁদের কাজ করার সময় বাড়ানো হলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। স্বাস্থ্য দফতরের কিছু কর্মীকেও মাঠে নেমে কাজ করতে হয়, যেমন ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মী (Vector Control Workers)। এইসব বিষয় বিবেচনা করেই এবার তাঁদের কাজের সময় কমানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার।
৮ ঘণ্টা নয়, ৬ ঘণ্টার ডিউটি! কারা পাবেন এই সুবিধা?
নবান্নের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, কয়েক হাজার সরকারি কর্মীর দৈনিক কাজের সময় ৮ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৬ ঘণ্টা করা হয়েছে। মূলত, যাঁরা ফিল্ড ওয়ার্ক (Field Work) করেন, অর্থাৎ যাঁদের অধিকাংশ সময় রাস্তায় বা খোলা জায়গায় কাটে, তাঁদেরই এই সুবিধা দেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে ট্রাফিক পুলিশের (Traffic Police) জন্য এই সুবিধা কার্যকর করা হয়েছে। অর্থাৎ, যাঁরা দীর্ঘক্ষণ রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ করেন, তাঁদের দৈনিক ২ ঘণ্টা কম কাজ করতে হবে।
এছাড়া পুরসভা এবং স্বাস্থ্য দফতরের কিছু কর্মীকেও এই সুবিধার আওতায় আনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা সরাসরি জনসংযোগের কাজ করেন এবং গরমের প্রভাব সরাসরি তাঁদের উপর পড়ে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কর্মীদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, কাজের প্রতি মনোযোগও বাড়বে। প্রশাসন সূত্রের খবর, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও কিছু বিভাগের কর্মীদের এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
নতুন সময়সূচি কীভাবে কার্যকর হবে?
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁরা ফিল্ড ওয়ার্ক করেন, তাঁদের শিফট (Shift) বদল করা হবে। আগে যাঁরা ৮ ঘণ্টা করে কাজ করতেন, এখন থেকে তাঁরা ৬ ঘণ্টা কাজ করবেন। অর্থাৎ, কাজের সময় ২ ঘণ্টা কমানো হবে। তবে যাঁদের অফিসের কাজ বেশি, তাঁরা আগের নিয়মেই কাজ চালিয়ে যাবেন। মূলত গরমের কারণে অসুবিধায় পড়ছেন যাঁরা, তাঁদের ক্ষেত্রেই এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশের জন্য নতুন শিফট পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সকাল, দুপুর ও বিকেলের শিফট ভাগ করা হবে, যাতে একজন কর্মীকে একটানা ৬ ঘণ্টার বেশি রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাজ করতে না হয়। পুরসভা এবং স্বাস্থ্য দফতরের ক্ষেত্রেও এমনই কিছু পরিকল্পনা করা হতে পারে। তবে এখনই সব কর্মীদের এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না, পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সরকারি সিদ্ধান্তে স্বস্তিতে কর্মীরা
নবান্নের এই সিদ্ধান্তে খুশি সরকারি কর্মীরা। বিশেষত ট্রাফিক পুলিশ কর্মীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। এক পুলিশ কর্মী জানান, “প্রখর রোদের মধ্যে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয়। গরমে শরীর খারাপ হয়ে যায়, কিন্তু কাজ থেমে থাকে না। এবার সরকারের এই সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হবে।”
সাধারণ মানুষও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, গরমে কর্মীদের সুস্থতা বজায় থাকাটা জরুরি। কারণ কর্মীরা সুস্থ থাকলে পরিষেবার মান আরও ভালো হবে। তবে অন্যান্য বিভাগে কর্মরত সরকারি কর্মীরা এই সুবিধা পাবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করে ভবিষ্যতে আরও বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার।